Thursday, August 2, 2018

সড়ক পথে অরাজকতা বন্ধে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার কিছু প্রস্তাবনা ও দাবি...

দূর্ঘটনা কারন

সর্বপ্রথম সড়কের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে তারপর সমাধানের জন্য বিভিন্ন মেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।তাই
প্রথমে আমি মোটা দাগে সড়ক দূর্ঘটনার কারন অথবা যে সব সমস্যার কারনে দূর্ঘটনা ঘটে তার কিছুদিক তুলে ধরার চেষ্টা করলাম-
নিরাপদ সড়ক চাই

১.অদক্ষ গাড়ির ড্রাইবার(লাইসেন্স বিহীন ড্রাইবার এবং ঘুষ প্রধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত লাইসেন্স ধারী ড্রাইবার) দ্বারা গাড়ি পরিচালনা করা।
২.ফিটনেস বিহীন গাড়ির সংখ্যা এবং রাস্তার তুলনায় গাড়ির সংখ্য বৃদ্ধি রাস্তায় দূর্ঘটনার অন্যতম কারন।
৩.গাড়ির দ্রূততার তারতম্য অনুযায়ী গাড়ির আলাদা রুট নির্ধারিত না থাকা এবং থাকলেও তা না মানা।
৪.ড্রাইবারদের অতিরিক্ত হারে ওভারটেক করার মানসিকতা অথবা একই লেনের গাড়ির ভেতর কম্পিটিশন করার মানসিকতা।
৫.রাস্তার দুপাশে অবৈধভাবে গাড়িপার্কিং, হকার অথবা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাদাঁ দিয়ে অথবা পুলিশের চাদাঁ গ্রহন করে বসতে দেয়ার মাধ্যমে রাস্তা দখল করে রাখা।
৫.রাস্তায় গাড়ি দাড়াঁ করিয়ে পুলিশের চাদাঁ গ্রহনের ফলে ড্রাইবারদের পলায়নের মানসিকতা তৈরি হয় এবং চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে !
৬.রাস্তায় উন্নয়নের নামে সারা বছর খনন এবং রিপেয়ার না করে বড় বড় গর্ত করে পেলে রাখা।
৭.ড্রাইবারদের ট্রাপিক আইন না মানা এবং একই সাথে ট্রাপিক পুলিশের বেপরোয়া চাদাঁবাজির ফলে গাড়ির মালিকের টাকা তুলতে গিয়ে অতি বেগে গাড়ি চালানো।
৮.সর্বসাধারনের রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা অর্থাৎ ওভারব্রীজ অথবা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার না করা একই সাথে রাস্তা পারাপারের পর্যাপ্ত পরিমান জেব্রাক্রসিং ও ওভারপাস ব্যবস্থা না থাকা একই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকার পরও তা ব্যবহার না করা।
৯.সড়কের তুলনায় অতি মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত গাড়ির লাইসেন্স প্রদান করা।
১০.ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা অতিহারে বৃদ্ধি এবং একই সাথে যেখানে সেখানে পার্কিং করা।
১১.সডক দূর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী আইন না করা এবং যে সব আইন রহেছে তার যথাযথভাবে প্রয়োগ না করা।
১২.ট্রাক ও মালবাহী গাড়িগুলোর ক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুন বেশি মালবহন এবং যাত্রীবাহি বাস এবং অন্যান্য পরিবহন গুলোর অধিকহারে যাত্রী বহন করা।
১৩.সড়কের ভাঙ্গা-চুড়া দশা ও খাদা খন্ধকে ভরা রাস্তা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন না করা।
১৪.ড্রাইবারদের গাড়ি চালানোর সময় অথাৎ দিনে কমপক্ষে ১০-১২ ঘন্টা গাড়ি চালানো একই সাথে মাদকদ্রব্য গ্রহন করে গাড়ি চালনা,চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালনা।
১৫.সড়কের ভেতরে আকাঁবাকাঁ টেকগুলো অতিরিক্ত পরিমানে থাকা এবং ঐ নিদির্ষ্ট স্থানে গাড়ির গতির যে নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার তা পালনে ড্রাইবারদের অনীহা একই সাথে আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থা না থাকা।
এছাড়া আরো নানাবিধ সমস্যা রহেছে যা চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে।

সড়ক দূর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা তথা আইন,সামাজিক সচেতনতা,রাস্তাঘাটের উন্নয়ন,সড়ক ব্যবস্থার সামগ্রিক বিষয়গুলো ঢেলে সাজানোসহ ব্যপক পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই
নিরাপদ সড়ক চাই



আমি সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি..


১.রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা এবং গাড়ি চালানোর পূর্বে অবশ্যই ট্রাফিক আইনের সকল ধারা ব্যাপারে জানা এবং মানার ব্যাপারে প্রত্যায়ন গ্রহন এবং আইন পালন না করলে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে আর এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের চাদাঁবাজির একটা সুযোগ আরো বাড়তে পারে সেজন্য সম্বব হলে সকল সড়কে ক্লোজ সার্কিড ক্যামেরা বসাতে হবে যার ভিত্তিতে সম্পুর্ণ সংয়ক্রিয় পদ্বতিতে আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে যাতে করে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তির সম্মুখীন না হয়।
২.সামাজিক ভাবে সর্বস্তরের জনগনকে রাস্তায় চলাচলের ব্যাপার সচেতন করে তোলার জন্য সামগ্রিক ভাবে সরকার,সামাজিক সংগঠন,ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার,শহর বন্দর এবং মহল্লা ভিত্তিক সামাজিক সচেতনতার ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বপুরি এককথায় মানুষকে সচেতন করে ট্রাফিক আইন পালনে অভ্যস্থ করে তুলতে হবে।
৩.রাস্তাগুলো সম্পুর্ণ রূপে অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করতে হবে এক্ষেত্রে হকার্স দের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারন করতে হবে যাতে করে হকাররা পূর্নরায় অবৈধ সুযোগ তৈরী করে পূর্নরায় বসতে না পারে।
৪.ফিটনেস বিহীন গাড়ির লাইসেন্স বাতিল এবং রাস্তায় চলাচলে নিষিদ্ধকরন এবং বড়অংকে জরিমানাসহ মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
৫.রাস্তার পাশে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানো, পার্কিং করা সম্পুর্ণ রূপে নিষিদ্ধ করতে হবে যেসব গাড়ির নিজস্ব পার্কিং থাকবেনা তাদের লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না আর যাদের বর্তমানে লাইসেন্স দেয়া রহেছে তাদের জন্য নিদির্ষ্ট সময় দিয়ে তা ব্যবস্থা করানো অন্যথায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করে রাস্তায় উঠা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৬.সরকারের থেকে প্রয়োজনীয় তদারকির ব্যবস্থা করে সম্পুর্ণ সড়ক পরিচালনার জন্য বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাদের কাজ হবে ড্রাইভিং প্রশিক্ষন তারপর পরিক্ষা সাপেক্ষে লাইন্সেস প্রদান, সড়কের শৃঙ্খলা বিধান,রাস্তার উন্নয়নে সামগ্রিক চাহিদা সরকারের কাছে জানানো এবং কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তদারকি, সড়কের সকল দূর্ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সুপারিশ। একই সাথে অবৈধ উপায়ে লাইসেন্স প্রদান করা রোধে দূর্ঘটনা হলে সংশ্লিষ্ট ড্রাইবারের যদি ভুল থাকে তাহলে লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ার অনিয়ম পাওয়া গেলে লাইসেন্স প্রদানকারীদের শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে।
নিরাপদ সড়ক চাই
নিরাপদ সড়ক চাই
৬.নাগরিকদের রাস্তা পারাপারে নিদিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে এবং ব্যবস্থা থাকার পরও যদি কোন ব্যক্তি তা পালন না করে তবে প্রয়োজনীয় আইন প্রনয়ন ও তার উপযুক্ত ব্যবহার করতে হবে।
৭.আইন পালনের ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ের মানুষের জন্য সমান বিধান তৈরী করা এবং যথায়থ ভাবে পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮.সড়ক ব্যবস্থায় গাড়িগুলোর গতির তারতম্যের উপর ভিত্তি করে আলাদা লেইন স্থাপন ও সেই অনুযায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।অন্ততপক্ষে গতির তারতম্যের ভিত্তিতে দুটি লেইন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. প্রাইবেট গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে পাবলিক গাড়িতে চলাচলের জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।এক্ষেত্রে রেলপথের সংখ্যা বৃদ্ধি করে রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা এবং যেসব এলাকায় নৌপথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রহেছে তার সম্প্রসারন করে নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে।
৯.মালবাহি গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে মাল বহনের জন্য নৌপথ এবং রেলপথের ব্যবহার করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে এক্ষেত্রে নৌ বন্দরগুলো আমাদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হবে।
১০.ট্রাফিক পুলিশের চাদাঁগ্রহন বন্ধ করা এবং তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
১১.মালবাহী পরিবহনে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন নিষিদ্ধ ও বহন করলে শাস্তির বিধান ও প্রয়োগের ব্যবস্থা করা এবং যাত্রীবাহি গাড়ী গুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ এবং আইন অমান্য করলে যথাযথ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
১২.পরিবহনে শ্রমিক ও মালিকদের নৈরাজ্য রোধে কঠোর আইন তৈরী এবং প্রয়োগের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
Add caption

এছাড়া স্বপ্ল মেয়াদে আরো কিছু প্রদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে---

স্বপ্লমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে যেসব উদ্যোগ গ্রহন করা যেতে পারে তার কিছু পিনপয়েন্ট তুলে ধরলাম-লাইন্সেস বিহীন ড্রাইবারদের গাড়ি চলাচলে নিষিদ্ধকরন,ফিটনেস বিহীন গাড়ি চালনা নিষিদ্ধ,ট্রাফিক আইন প্রনয়ণ ও সর্বোচ্চো প্রয়োগ,ধারনের অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল পরিবহন নিষিদ্ধ, ট্রাফিক পুলিশের চাদাঁবাজি বন্ধকরন,সেনাবাহিনী বা বিশেষ বাহিনী কতৃক সড়ক ব্যবস্থার পূর্ন তদারকির ব্যবস্থা গ্রহন ও সামাজিক সচেতনতার জন্য মিডিয়া গুলোকে অধিকহারে সচেতনতা মূলক প্রোগ্রাম প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রাথমিক ভাবে সড়কগুলোর দ্রুততার সাথে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
এছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত স্থাপন করে প্রতিটি রাস্তায় অবৈধ গাড়ি ও ড্রাইবারদের শাস্তি প্রদান এবং একই সাথে সাধারন জনগন রাস্তা পাড়াপাড়ে আইন ভঙ্গ করে তাদের সীমা অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
উপরোক্ত ব্যবস্থা ছাড়াও আরো অনেক স্বপ্ল ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে সড়কের মৃত্যুর মিছিল ও অরাজকতা রোধ করা সম্ভব।সর্বোপুরি সরকার ও জনগনের সর্বাত্বক প্রচেষ্টা থাকলে এ মহা সমস্যা সমাধান সম্ভব।
আসল কথা হল প্রতিটি সড়ক দূর্ঘটনা এক একটা পরিবারে সকল স্বপ্ন আশা আঙ্খাকা হাসি দুর করে দিতে পারে তাই এখনই সময় এ মহামারী থেকে জাতিকে উত্তোরনের।
আমার এ লেখা একান্তই আমার নিজস্ব ভাবনা এখানে অনেক ভুল ত্রুটি থাকতে পারে সড়ক সমস্যা সমাধানই হচ্ছে আসল ব্যাপার যার জন্য যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা জরুরী।

Saturday, October 21, 2017

জলে স্থবির সারা দেশ ;জলমগ্ন ঢাকা

        জলে স্থবির সারা দেশ ;জলমগ্ন ঢাকা



রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা এলাকায় থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মমিন। ফার্মগেটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। অফিসে যেতে সকাল ১০টার দিকে চারতলা বাসার নিচে নেমে দেখেন সড়কে হাঁটুপানি। সড়কে পানি ওঠার কারণে বাসও কম। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর তিনি একটি রিকশা পান। রিকশাচলক ফার্মগেটের ভাড়া চেয়ে বসেন ১০০ টাকা। বাধ্য হয়ে তিনি ওই রিকশায় অফিসে আসেন। তাঁর মতো আরও অনেক ব্যক্তিকে বৃষ্টির কারণে আজ শনিবার চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বসুন্ধরা সিটির পেছনের রাস্তায় কোমরসমান পানি। এখানে পানি পারাপারের জন্য ভ্যান ও রিকশার সহায়তা নিতে দেখা গেছে। পানি পারাপারের জন্য রিকশা ও ভ্যানচালকেরা হাঁকডাক দিচ্ছেন। ১০ টাকার বিনিময়ে পানি পারাপার হচ্ছেন এই এলাকার মানুষ। গ্রিন রোডে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের সামনেও একই দৃশ্য। এমনিতেই সেই রাস্তায় রিকশার সংখ্যা কম, এই সুযোগে রিকশাচালকেরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী মো. হাসান বলেন, গ্রিন লাইফ হাসপাতালের সামনে থেকে ফার্মগেট যেতে চাইলে এক রিকশাচালক ১০০ টাকা ভাড়া চান। অথচ এমনি সময় এই ভাড়া ২০ থেকে ২৫ টাকার বেশি নয়। বেসরকারি এক সংবাদমাধ্যমের সংবাদকর্মী কাবেরী মৈত্রেয় ফেসবুকে বাসার নিচের পানি ওঠার ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘বাসার নিচে কোমর পর্যন্ত জল...! চারতলা বাসার নিচতলা এরই মধ্যে ডুবেছে। এর ওপর এখনো বৃষ্টি থামার নাম নাই...! অফিসে যাব কীভাবে, তা ভাবতে ভাবতেই সকাল গড়িয়ে দুপুর..!’ তিন দিন ধরে টানা বর্ষণে ঢাকার জনজীবন বিপর্যস্ত। গতকাল শুক্রবারই বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় আজও অনেক সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ। বিশেষ করে সমস্যায় পড়ে স্কুলগামী শিশুরা। কর্মস্থলের যাওয়ার পথে যানবাহনের অভাবে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখা যায় অনেককে। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। সড়কে যানবাহন চলাচলও থমকে গিয়ে ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সকালে আকাশে কালো মেঘ ও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি দেখেও যাঁরা বাইরে বের হয়েছিলেন, তাঁদের বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। তিন দিনের বৃষ্টির পানি রাজধানীর সড়ক-অলিগলিতে জমেছে। তবে আজ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কম। রাজধানীর মিরপুর, গ্রিন রোড, বসুন্ধরা সিটির পেছনের রাস্তা, তেজকুনি পাড়া, তেজতুরী বাজার, খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো, নয়াপল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, মগবাজারের ভেতরের দিকে গলি, ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার এলাকার অধিকাংশ সড়কই পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরপানি জমে রয়েছে। বৃষ্টি চলতে থাকায় জমা পানির পরিমাণ বাড়ছেই। মিরপুরের ১১ নম্বর কালশী রোড, কাজীপাড়া, সেনপাড়া, ১৩ নম্বর সেকশন এগুলোর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে গেছে। মিরপুর ৬ নম্বরের একাংশ, ১০ নম্বর গোলচত্বরের সড়কের একাংশও পানিতে ডুবে গেছে। শিশুসন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে এক অভিভাবক বলেন, আজ বাচ্চার স্কুলে পরীক্ষা। তাই যেতে হয়েছে। নিজের মোটরসাইকেল থাকায় পরিবহন খোঁজার ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। এমনিতেই বৃষ্টি, তার ওপর রাস্তায় পানি জমে থাকায় বেশ অসুবিধা হয়েছে। মিরপুর ১ নম্বর ছাপাখানার মোড় থেকে আনসার ক্যাম্প বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন অনেকে। বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় অনেককেই ভ্যানে করে যাতায়াত করতে দেখা যায়। রাস্তার বাসিন্দা রুমা আহমেদ জানান, বাসার সামনে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যাওয়া অফিস যেতে পারেননি আজ। বাসার সামনেও দাঁড়ানোর উপায় নেই। আধা ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে কোনো পরিবহন না পেয়ে বাসায় ফিরে গেছেন তিনি। খিলগাঁও থেকে সকালে অফিসের উদ্দেশে বের হন আফসানা। তিনি বলেন, বাসার সামনে মূল ফটকের সামনেই পানি। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো রিকশা পাওয়া গেল না। খোলা নর্দমার কারণে নোংরা পানি পার হয়েই অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। ভাড়াও গুনতে হয়েছে অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। অফিসে পৌঁছেছেন ভিজে। ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (পশ্চিম) লিটন বলেন, নগরে তিন দিন ধরে বৃষ্টি। তবে নগরবাসী তেমন বের হচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় পানি জমেছে, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় যানজট হয়নি। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ তেমন বাইরে বের হচ্ছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজও বৃষ্টি হবে। কোথাও থেমে থেমে, কোথাও টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে আজও ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতাসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত—এই ২৪ ঘণ্টায় কেবল বৃষ্টি হয়েছে ১৪৯ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি এখন পর্যন্ত স্থল নিম্নচাপ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আজ সারা দিনই বৃষ্টি হবে। কোথাও থেমে থেমে, কোথাও টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। আগামীকাল রোববার থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে খুলনায় ১৬৩, বরিশালে ১৮৬, রাজশাহীতে ৯২, ময়মনসিংহে ১০০, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে ৮ ও রংপুরে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় গোপালগঞ্জে। এখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। টার্মিনালে বাস চলাচল ব্যাহত: টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বড় এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

Tuesday, October 17, 2017

বাঁচল না শিশুটিতিন হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে রাস্তায় সন্তান প্রসব

বাঁচল না শিশুটিতিন হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে রাস্তায় সন্তান প্রসব

প্রসব বেদনা নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। তিনটি সরকারি হাসপাতাল ঘুরেও স্থান হয়নি আসন্ন প্রসবা পারভিনের। অবশেষে রাস্তার ওপরই তার সন্তান প্রসব হয়েছে। তবে জন্মের পরপরই পারভিনের শিশুসন্তানটি মারা যায়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আজিমপুর ‘মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান’ এর সামনে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার আগে পারভিন নামে ওই নারী ওই হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হতে গেলে তাকে ভর্তি না নিয়ে বের করে দেয় হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ। অন্য দিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে দালালদের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

পারভিনের সাথে হাসপাতালে যাওয়া সোহেল নামে এক যুবক সাংবাদিকদের জানান, পারভিনের গ্রামের বাড়ি যশোর জেলায়। বেশ কয়েক মাস আগে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এর পর থেকে পারভিন গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারে থাকতেন। সোহেল বলেন, আমিও তাকে চিনি না। সোমবার রাত ৩টার দিকে তার ব্যথা শুরু হয়। এ সময় তিনি সোহেলের হাত-পা ধরে কেঁদে ফেলেন এবং তাকে হাসপাতালে নেয়ার অনুরোধ করেন। তখন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান সোহেল। সেখানে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে বলেন, তার স্বাভাবিক ডেলিভারি হবে। চিন্তার কারণ নেই।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা আবার পরীক্ষা করে জানান, পারভিনের সিজার করাতে হবে। তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তাদের ওখানের (ঢামেক) চেয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভালো চিকিৎসক রয়েছেন। তারা ডেলিভারি রোগীর ভালো চিকিৎসা প্রদান করেন। এসব বলে তারা পারভিনকে মিটফোর্ডে প্রেরণ করে। ভোর ৫টার দিকে পারভিনকে মিটফোর্ডে নেয়ার পর তারাও পরীক্ষা করে বলেন, সিজারে বাচ্চা হবে। কিন্তু তাদের ওখানে ভালো হবে না। তারা পারভিনকে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতে বলেন। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৮টার দিকে মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যান পারভিন।
কিন্তু সেখানে তার নামে কার্ড কিংবা রেজিস্ট্রেশন না থাকায় তারা পারভিনকে ভর্তি নেবে না বলে জানান। পারভিন আর টিকতে পারছে না, যেকোনো মুহূর্তে সন্তান প্রসব হয়ে যাবে বলে তাদের অনুরোধ করলে তাকে দ্বিতীয় তলার লেবার রুমে নিয়ে যায়। তখন লেবার রুমে কনসালট্যান্ট ডা: নিলুফা দায়িত্বরত ছিলেন।

সোহেল বলেন, লেবার রুমে নেয়ার পর এক নারী চিকিৎসক এসে তাদের বলেন, এর (পারভিন) তো সিজার করতে হবে। ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাগবে। তোমাদের কাছে কত টাকা আছে?
তখন পারভিন ও সোহেল তাদের কাছে টাকা নেই বলে জানালে তাৎক্ষণাৎ ওই চিকিৎসক চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের পোশাক পরিহিত এক আয়া এসে পারভিনের হাত ধরে নিচে নামিয়ে দিতে টানাহেঁচড়া করতে থাকেন। তিনি বলেন, আপনার চিকিৎসা এখানে হবে না, আপনি অন্য হাসপাতালে যান। না হয় ঢামেকে যান, আমরা ফোন করে দিচ্ছি। এই বলে আয়া তাকে টেনে নিচতলায় আনেন। তখন পারভিনের ব্যথা আরো বেড়ে যায়। হাঁটতে পারছিলেন না। নিচে আনার পর পারভিন বের হতে না চাইলে গেটের দারোয়ানরাও তাকে টেনে বের করে দেয়।
এ সময় পারভিন ৪-৫ কদম যেতেই তিনি মাটিতে পড়ে যান। এবং ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও রাস্তা দিয়ে যাওয়া পথচারীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। দূরে বসে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ দৃশ্য দেখছিলেন।
পারভিনকে কোনো রকম দাঁড় করিয়ে আবার ৩-৪ পা যেতেই তিনি আবার মাটিতে পড়ে যান এবং কাতরাতে থাকেন। এ সময় হঠাৎ করে তার সন্তান প্রসব হয়। পরে আশপাশের কয়েকজন মহিলা এসে চার দিকে কাপড় ধরে কাজটি শেষ করেন এবং পুত্রসন্তানটিকে একজনের হাতে নেন। শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দুই মিনিটের মতো হাত-পা নাড়াচ্ছিল। তখনো হাসপাতালের গেটে ও দোতলার জানালার কাছে দাঁড়িয়ে কয়েকজন নারী ডাক্তার, নার্স ও দারোয়ান বিষয়টি দেখছিলেন। কেউ এগিয়ে আসেনি। মিনিট দুয়েক পর শিশুটির দেহ হঠাৎ নিথর হয়ে যায়।
একজন অসহায় মায়ের এই করুণ দৃশ্য দেখেও হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সরা কেউ এগিয়ে আসেননি। কাঁদতে কাঁদতে সোহেল বলেন, এমন দৃশ্য দেখে আমার কান্না চলে আসে। পারভিনের চিৎকার আর শিশুটির মৃত্যুর দৃশ্য দেখে প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই কেঁদে ফেলেন। শিশুটি মারা যাওয়ার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা গণমাধ্যম ও পুলিশকে জানানোর কথা বললে হাসপাতালের দু’জন স্টাফ একটি ট্রলি নিয়ে এসে পারভিনকে একটি রুমে চিকিৎসা দেয়।
তারা শিশুটিকে নিতে চাইলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দেননি। তারা বলেন, এখানে পুলিশ ও সাংবাদিকরা আসবেন, তারা এসব দেখার পর তাকে দেয়া হবে। এভাবে ৪০ মিনিটের মতো সময় শিশুটির নিথর দেহ কনক্রিটের ওপর পড়ে থাকে। এ বিষয়ে সোহেল বলেন, কী করব বুঝতে পারছি না। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এ সময় পুলিশ আমাকে বলে, মামলা করে কী লাভ! তোমাকেই মাসে কয়েকবার আদালতে দৌড়াতে হবে, এতে অনেক টাকা খরচ হবে।

এ দিকে নির্মম এই ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা: ইশরাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, ওই রোগী আসার পর তাকে লেবার রুমে শোয়ানো হয়। নিয়মানুযায়ী টয়লেট করতে ও হাঁটা-চলা করতে বলা হয়।
এ সময় এক মহিলা ওই রোগীকে বলেন, ১৫০০ টাকা হলে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এই বলে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। ওই মহিলা দালাল চক্রের সদস্য। তারপরও গেটে দারোয়ান থাকতে কিভাবে ঘটনাটি ঘটল তা দেখা হবে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত দালালরা এসে বসে থাকে। তারা রোগী এলে তাদের ফুসলিয়া অন্য ক্লিনিকে নিয়ে যায়। আমার প্রতিষ্ঠানের নিচের শ্রেণীর কয়েকজন স্টাফের সাথে ওই দালালদের যোগসাজশ রয়েছে। মূলত তারাই এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এমনটি প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। তবুও এ ঘটনায় গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: হোসনে জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, আমাদের লোক দিয়ে নবজাতককে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করতে প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক (এসসিএইচ সার্ভিসেস) ডা: মোহাম্মদ শরীফ। তিনি পারভিনের সাথে কথা বলেন। এ সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, দালালরা ওই রোগীকে ফুসলিয়ে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। এই জন্য এমনটি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিজেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

লালবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ না করলে আমরা তো ব্যবস্থা নিতে পারি না! শুনেছি, মহিলার চিকিৎসা চলছে। তিনি সুস্থ হওয়ার পর এসে অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



(সংগৃহিত --নয়া দিগন্ত )

Friday, February 14, 2014

১৪ই ফেব্রূয়ারী বিশ্ব বেহায়া দিবস

ফেব্রূয়ারির ১৪ তারিখ এলেই আমাদের সব ভালবাসা যেন উতলিয়ে ওঠে।
আসলেই কি তাই...???????
আমি বলবো আসলে তা নয়।
তাহলে মানুষ এটাকে নিয়ে এত দোঁড়-ঝোপ কেন করে...??????
করে এজন্য যে এর মাধ্যমে ইসলামের মৌলিক বিধি-নিষেধ কে খুব সহজেই ভেঙে ছুড়ে চুরমার করা যায় তাই কিছু সংখ্যক ইসলাম বিদ্ধেষি শয়তানের পরোক্ষ সহযোগিতায় সমাজর একটি মূখ শ্রেণীর মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে যদিও তারা নিজেদের শিক্ষিত বলতে পছন্দ করে।
মূলতে এ ভালবাসা দিবসে কিছু নিলজ্জের উলঙ্গপনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
যদিও এটা প্রথমে অমুসলিমদের সংস্কৃতি ছিল  কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এটা আমাদের
মুসলিম সমাজে বিষদর সাপের ন্যায় ঠুকে পড়েছে যা মুসলমানদের ধ্বংসের শেষসীমায় পৌছে দিচ্ছে।
তাই এখনই সময় এর বিরূদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে মুসলমান সমাজকে এই অপসংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে।