দূর্ঘটনা কারন
সর্বপ্রথম সড়কের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে তারপর সমাধানের জন্য বিভিন্ন মেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।তাই
১.অদক্ষ গাড়ির ড্রাইবার(লাইসেন্স বিহীন ড্রাইবার এবং ঘুষ প্রধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত লাইসেন্স ধারী ড্রাইবার) দ্বারা গাড়ি পরিচালনা করা।
২.ফিটনেস বিহীন গাড়ির সংখ্যা এবং রাস্তার তুলনায় গাড়ির সংখ্য বৃদ্ধি রাস্তায় দূর্ঘটনার অন্যতম কারন।
৩.গাড়ির দ্রূততার তারতম্য অনুযায়ী গাড়ির আলাদা রুট নির্ধারিত না থাকা এবং থাকলেও তা না মানা।
৪.ড্রাইবারদের অতিরিক্ত হারে ওভারটেক করার মানসিকতা অথবা একই লেনের গাড়ির ভেতর কম্পিটিশন করার মানসিকতা।
৫.রাস্তার দুপাশে অবৈধভাবে গাড়িপার্কিং, হকার অথবা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাদাঁ দিয়ে অথবা পুলিশের চাদাঁ গ্রহন করে বসতে দেয়ার মাধ্যমে রাস্তা দখল করে রাখা।
৫.রাস্তায় গাড়ি দাড়াঁ করিয়ে পুলিশের চাদাঁ গ্রহনের ফলে ড্রাইবারদের পলায়নের মানসিকতা তৈরি হয় এবং চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে !
৬.রাস্তায় উন্নয়নের নামে সারা বছর খনন এবং রিপেয়ার না করে বড় বড় গর্ত করে পেলে রাখা।
৭.ড্রাইবারদের ট্রাপিক আইন না মানা এবং একই সাথে ট্রাপিক পুলিশের বেপরোয়া চাদাঁবাজির ফলে গাড়ির মালিকের টাকা তুলতে গিয়ে অতি বেগে গাড়ি চালানো।
৮.সর্বসাধারনের রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা অর্থাৎ ওভারব্রীজ অথবা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার না করা একই সাথে রাস্তা পারাপারের পর্যাপ্ত পরিমান জেব্রাক্রসিং ও ওভারপাস ব্যবস্থা না থাকা একই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকার পরও তা ব্যবহার না করা।
৯.সড়কের তুলনায় অতি মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত গাড়ির লাইসেন্স প্রদান করা।
১০.ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা অতিহারে বৃদ্ধি এবং একই সাথে যেখানে সেখানে পার্কিং করা।
১১.সডক দূর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী আইন না করা এবং যে সব আইন রহেছে তার যথাযথভাবে প্রয়োগ না করা।
১২.ট্রাক ও মালবাহী গাড়িগুলোর ক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুন বেশি মালবহন এবং যাত্রীবাহি বাস এবং অন্যান্য পরিবহন গুলোর অধিকহারে যাত্রী বহন করা।
১৩.সড়কের ভাঙ্গা-চুড়া দশা ও খাদা খন্ধকে ভরা রাস্তা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন না করা।
১৪.ড্রাইবারদের গাড়ি চালানোর সময় অথাৎ দিনে কমপক্ষে ১০-১২ ঘন্টা গাড়ি চালানো একই সাথে মাদকদ্রব্য গ্রহন করে গাড়ি চালনা,চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালনা।
১৫.সড়কের ভেতরে আকাঁবাকাঁ টেকগুলো অতিরিক্ত পরিমানে থাকা এবং ঐ নিদির্ষ্ট স্থানে গাড়ির গতির যে নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার তা পালনে ড্রাইবারদের অনীহা একই সাথে আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থা না থাকা।
এছাড়া আরো নানাবিধ সমস্যা রহেছে যা চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে।
সড়ক দূর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা তথা আইন,সামাজিক সচেতনতা,রাস্তাঘাটের উন্নয়ন,সড়ক ব্যবস্থার সামগ্রিক বিষয়গুলো ঢেলে সাজানোসহ ব্যপক পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে।
![]() |
| নিরাপদ সড়ক চাই |
আমি সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি..
১.রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা এবং গাড়ি চালানোর পূর্বে অবশ্যই ট্রাফিক আইনের সকল ধারা ব্যাপারে জানা এবং মানার ব্যাপারে প্রত্যায়ন গ্রহন এবং আইন পালন না করলে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে আর এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের চাদাঁবাজির একটা সুযোগ আরো বাড়তে পারে সেজন্য সম্বব হলে সকল সড়কে ক্লোজ সার্কিড ক্যামেরা বসাতে হবে যার ভিত্তিতে সম্পুর্ণ সংয়ক্রিয় পদ্বতিতে আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে যাতে করে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তির সম্মুখীন না হয়।
২.সামাজিক ভাবে সর্বস্তরের জনগনকে রাস্তায় চলাচলের ব্যাপার সচেতন করে তোলার জন্য সামগ্রিক ভাবে সরকার,সামাজিক সংগঠন,ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার,শহর বন্দর এবং মহল্লা ভিত্তিক সামাজিক সচেতনতার ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বপুরি এককথায় মানুষকে সচেতন করে ট্রাফিক আইন পালনে অভ্যস্থ করে তুলতে হবে।
৩.রাস্তাগুলো সম্পুর্ণ রূপে অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করতে হবে এক্ষেত্রে হকার্স দের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারন করতে হবে যাতে করে হকাররা পূর্নরায় অবৈধ সুযোগ তৈরী করে পূর্নরায় বসতে না পারে।
৪.ফিটনেস বিহীন গাড়ির লাইসেন্স বাতিল এবং রাস্তায় চলাচলে নিষিদ্ধকরন এবং বড়অংকে জরিমানাসহ মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
৫.রাস্তার পাশে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানো, পার্কিং করা সম্পুর্ণ রূপে নিষিদ্ধ করতে হবে যেসব গাড়ির নিজস্ব পার্কিং থাকবেনা তাদের লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না আর যাদের বর্তমানে লাইসেন্স দেয়া রহেছে তাদের জন্য নিদির্ষ্ট সময় দিয়ে তা ব্যবস্থা করানো অন্যথায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করে রাস্তায় উঠা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৬.সরকারের থেকে প্রয়োজনীয় তদারকির ব্যবস্থা করে সম্পুর্ণ সড়ক পরিচালনার জন্য বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাদের কাজ হবে ড্রাইভিং প্রশিক্ষন তারপর পরিক্ষা সাপেক্ষে লাইন্সেস প্রদান, সড়কের শৃঙ্খলা বিধান,রাস্তার উন্নয়নে সামগ্রিক চাহিদা সরকারের কাছে জানানো এবং কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তদারকি, সড়কের সকল দূর্ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সুপারিশ। একই সাথে অবৈধ উপায়ে লাইসেন্স প্রদান করা রোধে দূর্ঘটনা হলে সংশ্লিষ্ট ড্রাইবারের যদি ভুল থাকে তাহলে লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ার অনিয়ম পাওয়া গেলে লাইসেন্স প্রদানকারীদের শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে।
![]() |
| নিরাপদ সড়ক চাই |
৬.নাগরিকদের রাস্তা পারাপারে নিদিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে এবং ব্যবস্থা থাকার পরও যদি কোন ব্যক্তি তা পালন না করে তবে প্রয়োজনীয় আইন প্রনয়ন ও তার উপযুক্ত ব্যবহার করতে হবে।
৭.আইন পালনের ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ের মানুষের জন্য সমান বিধান তৈরী করা এবং যথায়থ ভাবে পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮.সড়ক ব্যবস্থায় গাড়িগুলোর গতির তারতম্যের উপর ভিত্তি করে আলাদা লেইন স্থাপন ও সেই অনুযায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।অন্ততপক্ষে গতির তারতম্যের ভিত্তিতে দুটি লেইন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. প্রাইবেট গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে পাবলিক গাড়িতে চলাচলের জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।এক্ষেত্রে রেলপথের সংখ্যা বৃদ্ধি করে রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা এবং যেসব এলাকায় নৌপথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রহেছে তার সম্প্রসারন করে নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে।
৯.মালবাহি গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে মাল বহনের জন্য নৌপথ এবং রেলপথের ব্যবহার করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে এক্ষেত্রে নৌ বন্দরগুলো আমাদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হবে।
১০.ট্রাফিক পুলিশের চাদাঁগ্রহন বন্ধ করা এবং তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
১১.মালবাহী পরিবহনে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন নিষিদ্ধ ও বহন করলে শাস্তির বিধান ও প্রয়োগের ব্যবস্থা করা এবং যাত্রীবাহি গাড়ী গুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ এবং আইন অমান্য করলে যথাযথ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
এছাড়া স্বপ্ল মেয়াদে আরো কিছু প্রদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে---
স্বপ্লমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে যেসব উদ্যোগ গ্রহন করা যেতে পারে তার কিছু পিনপয়েন্ট তুলে ধরলাম-লাইন্সেস বিহীন ড্রাইবারদের গাড়ি চলাচলে নিষিদ্ধকরন,ফিটনেস বিহীন গাড়ি চালনা নিষিদ্ধ,ট্রাফিক আইন প্রনয়ণ ও সর্বোচ্চো প্রয়োগ,ধারনের অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল পরিবহন নিষিদ্ধ, ট্রাফিক পুলিশের চাদাঁবাজি বন্ধকরন,সেনাবাহিনী বা বিশেষ বাহিনী কতৃক সড়ক ব্যবস্থার পূর্ন তদারকির ব্যবস্থা গ্রহন ও সামাজিক সচেতনতার জন্য মিডিয়া গুলোকে অধিকহারে সচেতনতা মূলক প্রোগ্রাম প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রাথমিক ভাবে সড়কগুলোর দ্রুততার সাথে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
এছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত স্থাপন করে প্রতিটি রাস্তায় অবৈধ গাড়ি ও ড্রাইবারদের শাস্তি প্রদান এবং একই সাথে সাধারন জনগন রাস্তা পাড়াপাড়ে আইন ভঙ্গ করে তাদের সীমা অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
উপরোক্ত ব্যবস্থা ছাড়াও আরো অনেক স্বপ্ল ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে সড়কের মৃত্যুর মিছিল ও অরাজকতা রোধ করা সম্ভব।সর্বোপুরি সরকার ও জনগনের সর্বাত্বক প্রচেষ্টা থাকলে এ মহা সমস্যা সমাধান সম্ভব।
আসল কথা হল প্রতিটি সড়ক দূর্ঘটনা এক একটা পরিবারে সকল স্বপ্ন আশা আঙ্খাকা হাসি দুর করে দিতে পারে তাই এখনই সময় এ মহামারী থেকে জাতিকে উত্তোরনের।
আমার এ লেখা একান্তই আমার নিজস্ব ভাবনা এখানে অনেক ভুল ত্রুটি থাকতে পারে সড়ক সমস্যা সমাধানই হচ্ছে আসল ব্যাপার যার জন্য যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা জরুরী।





